ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই কৃষিপ্রধান। তাই কৃষির উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Urea)। ভালো ফলন পেতে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান মাটিতে সরবরাহ করতে হয়, আর সেই কাজেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রাসায়নিক সার হলো ইউরিয়া সার।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনের অন্যতম সমৃদ্ধ এবং সাশ্রয়ী উৎস। তাই ধান (Paddy), গম (Wheat), ভুট্টা, আখ, শাকসবজি ও অন্যান্য প্রায় সব ধরনের ফসলের চাষে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশেই সরকার ইউরিয়া সারের ওপর ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
এই প্রবন্ধে আমরা সহজ ভাষায় জানব ইউরিয়া সারের রাসায়নিক গঠন, এর বিভিন্ন ব্যবহার, তরল ইউরিয়া সারের বৈশিষ্ট্য, এবং ভারত ও বাংলাদেশে ইউরিয়া সার কীভাবে তৈরি করা হয় (Fertilizer)।
ইউরিয়া সার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক (Urea fertilizer):
- ইউরিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ রাসায়নিক সার। এটি একটি জৈব রাসায়নিক যৌগ, যা কার্বন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত CH₄N₂O, যা CO(NH₂)₂ নামেও পরিচিত (Urea)।
- ইউরিয়ার অণুতে একটি কার্বনিল গ্রুপ (C=O)-এর সঙ্গে দুটি অ্যামিন গ্রুপ (NH₂) যুক্ত থাকে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে, যা বাজারে প্রচলিত দানাদার নাইট্রোজেন সারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ কারণে অল্প পরিমাণ ইউরিয়া ব্যবহার করেও ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের বড় একটি অংশ সরবরাহ করা সম্ভব।

- ইউরিয়া সাধারণত সাদা রঙের, গন্ধহীন এবং দানাদার বা ছোট দানার আকারে বাজারে পাওয়া যায়। এটি জলে খুব সহজে দ্রবীভূত হয়। তাই মাটিতে প্রয়োগ করার পর দ্রুত গলে যায় এবং উদ্ভিদের শিকড় সহজেই প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন শোষণ করতে পারে। এর ফলে গাছের পাতা সবুজ হয়, বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে এবং ফলন বাড়তে সাহায্য করে।
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মূত্রে অল্প পরিমাণ ইউরিয়া তৈরি হলেও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ইউরিয়া সম্পূর্ণ শিল্পকারখানায় উৎপাদিত হয়। বাণিজ্যিকভাবে অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড -এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া তৈরি করা হয়। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই পদ্ধতিতে বৃহৎ পরিসরে ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয় (Urea)।
ভারত ও বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের গুরুত্ব (Urea formula):
- ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ। দেশটির কৃষি মূলত ধান, গম, ভুট্টা ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব ফসলের ভালো ফলনের জন্য প্রচুর নাইট্রোজেন সারের প্রয়োজন হয়। তাই ভারত সরকার ইউরিয়া সারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কৃষকদের কম দামে সার সরবরাহ করতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে থাকে (Urea)।
- দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক আধুনিক ইউরিয়া উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কারখানা দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করলেও সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। তাই অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটাতে ভারতকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরিয়া আমদানি করতে হয়।

- অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কৃষির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে ধান চাষে ভালো ফলন পেতে ইউরিয়া সারের ব্যবহার অপরিহার্য। দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন। প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় বাংলাদেশে ইউরিয়া উৎপাদনের ভালো সুযোগ রয়েছে, কারণ এই সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (Urea fertilizer formula)।
- তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন এখনও কম। তাই প্রতিবছর বাংলাদেশকেও বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরিয়া আমদানি করতে হয়, যাতে কৃষকদের সারের কোনো সংকটে পরতে না হয় (Urea)।
- ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ইউরিয়া সার সরবরাহের জন্য ভর্তুকি নীতি চালু রেখেছে। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে, ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Formula of urea)।
ইউরিয়া সারের ব্যবহার সম্পর্কে জানুন (Urea fertilizer uses):
ইউরিয়া সার মূলত কৃষিক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু কৃষিকাজেই নয়, পশুখাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পকারখানাতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। নিচে ইউরিয়া সারের প্রধান ব্যবহারগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো (Urea)।
প্রধান নাইট্রোজেন সার হিসেবে ব্যবহার:
- ইউরিয়া সারের সবচেয়ে বড় ব্যবহার হলো ফসলের জন্য নাইট্রোজেন সরবরাহ করা। নাইট্রোজেন উদ্ভিদের সবুজ পাতা গঠন, ক্লোরোফিল তৈরি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধান, গম, ভুট্টা (Grow Sweet Corn), আখ, পাট (Jute), চা (Tea), বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলের গাছে সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, পাতা সবুজ থাকে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি:
- একই জমিতে বারবার চাষাবাদ করলে মাটির নাইট্রোজেন ধীরে ধীরে কমে যায়। এই ঘাটতি পূরণ করতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। সঠিক নিয়মে ইউরিয়া প্রয়োগ করলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং প্রতিটি মৌসুমেই ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে (Urea)।
পশুখাদ্য তৈরিতে ব্যবহার:
- ইউরিয়া শুধু কৃষিকাজেই নয়, গবাদি পশুর খাদ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। নির্ধারিত মাত্রায় ইউরিয়া মিশিয়ে এটি প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পশুর বৃদ্ধি এবং দুধ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। গাছে দেওয়ার জন্য আপনি ঘরে তৈরী করা সারও ব্যবহার করতে পারেন (Homemade fertilizer for plants)।
বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার:
- ইউরিয়ার ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত। এটি রেজিন, প্লাস্টিক, আঠা, ওষুধ এবং বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষতিকর ধোঁয়া কমাতে ব্যবহৃত ডিজেল এক্সহস্ট ফ্লুইড তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও হলো ইউরিয়া।

পাতায় স্প্রে করার মাধ্যমে দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ:
- সাধারণত ইউরিয়া মাটিতে প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রয়োজনে জলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করেও ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ দ্রুত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে, বিশেষ করে যখন গাছে দ্রুত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তরল ইউরিয়া সার বা ইউরিয়া দ্রবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। সার হিসাবে কফি গ্রাউন্ডও ব্যবহার করতে পারেন (Coffee Grounds)।
তরল ইউরিয়া সার সম্পর্কে কিছু তথ্য (Liquid urea fertilizer):
তরল ইউরিয়া সার বা লিকুইড ইউরিয়া হলো ইউরিয়ার একটি আধুনিক রূপ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ভারতে ন্যানো ইউরিয়া লিকুইড চালু হওয়ার পর এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেড়েছে। এতে ইউরিয়ার কণাগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা ন্যানো আকারের হওয়ায় গাছের পাতার মাধ্যমে দ্রুত শোষিত হয় এবং অল্প পরিমাণেই কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন সরবরাহ করতে পারে (Urea)।

তরল ইউরিয়া সারের বৈশিষ্ট্য-
দ্রুত পুষ্টি সরবরাহ:
- ন্যানো আকারের কণাগুলো পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে সহজেই গাছের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে উদ্ভিদ দ্রুত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে এবং এর প্রভাব অল্প সময়েই দেখা যায়।
অল্প পরিমাণেই কার্যকর:
- প্রচলিত দানাদার ইউরিয়ার তুলনায় খুব কম পরিমাণ তরল ইউরিয়াই কার্যকরভাবে পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। তবে কতটা দানাদার ইউরিয়ার বিকল্প হবে, তা ফসল, ব্যবহার পদ্ধতি এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।
বহন ও সংরক্ষণে সহজ:
- ভারী ইউরিয়ার বস্তা বহনের পরিবর্তে ছোট বোতলে তরল ইউরিয়া সহজেই পরিবহন ও সংরক্ষণ করা যায়। এতে পরিবহন খরচও তুলনামূলকভাবে কম হয়।

পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক:
- দানাদার ইউরিয়া অতিরিক্ত ব্যবহার করলে এর একটি অংশ মাটি ও জলে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটাতে পারে। কিন্তু তরল ইউরিয়া সরাসরি পাতায় স্প্রে করা হয়, ফলে পুষ্টির অপচয় কম হয় এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কম পড়ে।
সহজ প্রয়োগ পদ্ধতি:
- তরল ইউরিয়া সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রেয়ারের সাহায্যে ফসলের পাতায় ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ফসলের গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি পর্যায়ে এটি প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ভারতে ইফকো সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে ন্যানো ইউরিয়া লিকুইড বাজারজাত করে। এর লক্ষ্য ছিল দানাদার ইউরিয়ার ব্যবহার কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা।
বাংলাদেশেও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পাতায় স্প্রে করে ব্যবহারযোগ্য তরল সার ও ন্যানো সার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। যদিও বর্তমানে দেশের কৃষিতে প্রচলিত দানাদার ইউরিয়ার ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি, তবুও ভবিষ্যতে আধুনিক তরল সারের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশে ইউরিয়া সার তৈরির পদ্ধতি (How to make urea fertilizer):
বিশ্বজুড়ে ইউরিয়া উৎপাদনের মৌলিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াটি মোটামুটি একই রকম, যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি করা হয় এবং তারপর কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন করা হয়। নিচের সারণিতে এই প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হয়েছে।
| প্রক্রিয়ার নাম | বিস্তারিত বিবরণ |
| কাঁচামাল সংগ্রহ | ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামালগুলো হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন), বাতাস থেকে আহরিত নাইট্রোজেন এবং বাষ্প। ভারতে কিছু কারখানা কাঁচামাল হিসেবে ন্যাপথা বা কয়লাও ব্যবহার করে, অপরদিকে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসই প্রধান জ্বালানি। |
| সিনগ্যাস উৎপাদন | উচ্চ-তাপমাত্রার স্টিম রিফর্মিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসকে হাইড্রোজেন ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে সিনগ্যাস বলা হয়। |
| অ্যামোনিয়া সংশ্লেষণ | হেবার-বশ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় বাতাস থেকে সংগৃহীত হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেনের বিক্রিয়ার মাধ্যমে তরল অ্যামোনিয়া (NH₃) উৎপাদন করা হয়। |
| কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ | সিনগ্যাস উৎপাদনের উপজাত কার্বন ডাইঅক্সাইড কে পরিশুদ্ধ করে পরবর্তী ধাপের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। |

| ইউরিয়া সংশ্লেষণ বিক্রিয়া | একটি বিশেষ রিঅ্যাক্টরে উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় অ্যামোনিয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট এবং তারপর ইউরিয়া ও জল উৎপন্ন করা হয়। |
| ঘনীভবন ও দানাকরণ | তরল ইউরিয়া দ্রবণকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ঘনীভূত করা হয়, তারপর প্রিলিং টাওয়ার বা গ্রানুলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল ইউরিয়াকে ছোট ছোট দানা বা প্রিলে রূপান্তরিত করা হয়। |
| শীতলীকরণ ও প্যাকেজিং | শীতল করার পর, উৎপাদিত দানাদার ইউরিয়া গুণমান পরীক্ষা করা হয়, ব্যাগে মোড়কজাত করা হয় এবং বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। |
| বিতরণ ব্যবস্থা | ভারতে সরকারি ভর্তুকি কাঠামোর অধীনে এবং বাংলাদেশে বিসিআইসি ও অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়। |
উপরোক্ত প্রক্রিয়াটি থেকে দেখা যায় যে, ইউরিয়া উৎপাদন একটি জটিল রাসায়নিক শিল্প প্রক্রিয়া, যেখানে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ভারতে বেশ কয়েকটি বৃহৎ সার কারখানা এই প্রক্রিয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন করে এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন সার কারখানায় একই নীতি অনুসরণ করে প্রাকৃতিক গ্যাস-ভিত্তিক ইউরিয়া উৎপাদিত হয়। আপনি বাড়িতেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে সবুজ সার (Green manure), জৈব সার (Organic fertilizer), ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost) এবং প্রাকৃতিক সার (Natural fertilizer) তৈরি করতে পারেন। আমি নিজেও এইভাবে সার তৈরি করেছি ও ব্যবহার উপকারও পেয়েছি।
উপসংহার
ইউরিয়া সার ভারত ও বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর রাসায়নিক সংকেত CH₄N₂O এবং এতে প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকায় এটি সবচেয়ে কার্যকর ও বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হিসেবে পরিচিত। কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি পশুখাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পকারখানাতেও ইউরিয়ার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তরল বা ন্যানো ইউরিয়ার ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এই আধুনিক সার প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব এবং উদ্ভিদের কাছে দ্রুত পুষ্টি পৌঁছে দিতে সক্ষম। ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রক্রিয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন করা হয়। তবে দেশীয় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় দুই দেশকেই প্রতি বছর কিছু পরিমাণ ইউরিয়া আমদানি করতে হয়। ভবিষ্যতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তরল ইউরিয়ার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হলে কৃষকদের জন্য সার সহজলভ্য হবে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে (Urea)।
একটি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ):
প্রশ্ন ১. ইউরিয়া কি (What is urea)?
উত্তর ১: ইউরিয়া হলো একটি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও সবুজ পাতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে প্রায় ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে, তাই এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার।
প্রশ্ন ২. ইউরিয়া সারের দাম কত (What are the urea fertilizer price)?
উত্তর ২: ইউরিয়া সারের দাম দেশ, সরকারি ভর্তুকি, কোম্পানি ও বাজারভেদে পরিবর্তিত হয়। সঠিক ও সর্বশেষ দাম জানতে স্থানীয় সার বিক্রেতা বা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
প্রশ্ন ৩. ইউরিয়া কোন ধরনের সার (Urea is which type of fertilizer)?
উত্তর ৩: ইউরিয়া একটি রাসায়নিক নাইট্রোজেন সার। এটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে এবং দ্রুত বৃদ্ধি ও অধিক ফলন পেতে সহায়তা করে।
প্রশ্ন ৪. ইউরিয়া সার কিসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
উত্তর ৪: ইউরিয়া সার মূলত ফসলের নাইট্রোজেনের ঘাটতি পূরণ করে গাছের বৃদ্ধি, সবুজ পাতা ও ফলন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি, আখসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলে এটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।
