Written by 8:00 pm Seasonal Gardening

Trees to plant in august: আগস্টে রোপণ করার মতো উদ্ভিদ সম্পর্কে তথ্য

Trees to plant in august

প্রকৃতির ভারসাম্য ও সবুজায়ন রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশই কৃষিনির্ভর এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবযুক্ত অঞ্চলে অবস্থিত (Trees to plant in august)। তাই গাছ রোপণের জন্য বর্ষাকালকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়।

সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল স্থায়ী হয়। এর মধ্যে আগস্ট মাস গাছ লাগানোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, আর্দ্র মাটি, তুলনামূলক মৃদু তাপমাত্রা এবং অনুকূল আবহাওয়া গাছের চারাকে দ্রুত বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। ফলে চারাকে আলাদা করে বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং নতুন গাছের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।

আজকের এই নিবন্ধে আমরা জানব—কেন আগস্ট মাস গাছ লাগানোর জন্য এত উপযুক্ত, এই সময় কোন কোন গাছ রোপণ করা ভালো, ফলদ গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মনে রাখা উচিত এবং কীভাবে নতুন চারার সঠিক পরিচর্যা করতে হয়। শেষে একটি সহজ সারণির মাধ্যমে সেরা কয়েকটি গাছের নাম, রোপণের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার তথ্যও তুলে ধরা হবে  (Trees to plant in august)।

প্রাকৃতিকভাবে জলের সুবিধা:

  • আগস্ট মাসে ভারত ও বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়। ফলে নতুন লাগানো চারাগাছের জন্য আলাদা করে বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় গাছের শিকড় সহজেই মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

মাটির উর্বরতা ও উন্নত গঠন:

  • বর্ষার জলের সঙ্গে বিভিন্ন জৈব উপাদান মাটিতে মিশে মাটির গুণমান ও উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ সময় মাটি নরম ও ঝুরঝুরে থাকে, তাই গর্ত তৈরি করা এবং নতুন চারা রোপণ করাও তুলনামূলকভাবে সহজ হয়  (Trees to plant in august)।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক:

  • বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আগস্টে রোপণ করা চারাগাছ অনুকূল আবহাওয়ায় দ্রুত বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়, ফলে এর পরিবেশগত সুফলও ধীরে ধীরে পাওয়া যায়।

মাটি ক্ষয় রোধে সাহায্য করে:

  • ভারত ও বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলই বন্যা, নদীভাঙন ও মাটিক্ষয়ের সমস্যায় আক্রান্ত। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে মাটি সহজে ধুয়ে যাওয়া বা ক্ষয় হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পায়। বর্ষাকালে নতুন গাছ লাগালে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়  (Trees to plant in august)।

চারাগাছ টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি:

  • শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় বর্ষাকালে নতুন চারাগাছের জন্য পরিবেশ অনেক বেশি অনুকূল। আগস্ট মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতা থাকায় চারাগাছ সহজে জলশূন্য হয়ে পরেনা। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের চাপও তুলনামূলক কম থাকে। ফলে সঠিকভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করলে চারাগাছের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

সামাজিক ও সরকারি উদ্যোগের জন্য উপযুক্ত সময়:

  • বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। স্কুল-কলেজ, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই সময় মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করে। ফলে আগস্ট মাসে বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে  (Trees to plant in august)।

আগস্ট মাসে গাছ রোপণের আগে কয়েকটি জরুরি তথ্য জেনে নেওয়া যাক:

গাছ লাগানোর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার। সঠিকভাবে স্থান নির্বাচন, মাটি প্রস্তুত এবং উপযুক্ত চারা বেছে নিলে গাছ সহজে বেড়ে উঠতে পারে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে (Trees to plant in august)।

স্থান নির্বাচন:

  • গাছের প্রজাতি অনুযায়ী উপযুক্ত স্থান বেছে নিতে হবে। সেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক, পর্যাপ্ত জায়গা এবং উপযুক্ত মাটি রয়েছে কি না, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। বড় গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে গাছের শিকড় বা ডালপালা বাড়ি, দেয়াল কিংবা অন্য কোনো কাঠামোর ক্ষতি না করে।

মাটির প্রস্তুতি:

  • চারা লাগানোর আগে মাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত। মাটির সঙ্গে জৈব সার (Organic fertilizer) বা কম্পোস্ট মিশিয়ে দিলে চারার বৃদ্ধিতে উপকার হয়। পাশাপাশি বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল জমে না থাকার জন্য ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা জরুরি। জলাবদ্ধতা হলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে।

গর্তের আকার:

  • সাধারণভাবে প্রায় ৪৫ × ৪৫ × ৪৫ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত অনেক ধরনের গাছের জন্য উপযুক্ত। তবে গাছের প্রজাতি ও চারার আকার অনুযায়ী গর্তের আকার কিছুটা বড় বা ছোট করা যেতে পারে  (Trees to plant in august)।

সুস্থ চারা নির্বাচন:

  • রোপণের জন্য সবসময় সুস্থ, রোগমুক্ত এবং শক্তপোক্ত চারা বেছে নেওয়া ভালো। যে অঞ্চলে গাছটি লাগানো হবে, সেই এলাকার জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এমন চারা নির্বাচন করা উচিত। স্থানীয় নার্সারি থেকে চারা নিলে অনেক সময় তা স্থানীয় পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে (Monsoon garden)

আগাছা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ:

  • বর্ষাকালে মাটিতে আর্দ্রতা বেশি থাকায় আগাছা দ্রুত বেড়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণও হতে পারে। তাই নিয়মিত গাছের চারপাশ পরিষ্কার করা এবং পাতায় কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ হয়েছে কি না, তা নজরে রাখা দরকার (Garden Diseases)

দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার:

  • সম্ভব হলে বিদেশি প্রজাতির পরিবর্তে স্থানীয় বা দেশীয় গাছ লাগানো ভালো। দেশীয় গাছ সাধারণত স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি এসব গাছ স্থানীয় পাখি, প্রজাপতি ও অন্যান্য উপকারী প্রাণীর জন্যও খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে  (Trees to plant in august)।
  • আগস্ট মাসে বর্ষার অনুকূল আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো যায়। ছায়াদানকারী, ঔষধি, কাঠ উৎপাদনকারী এবং শোভাবর্ধনকারী—প্রায় সব ধরনের গাছই এই সময় রোপণের জন্য উপযুক্ত (Trees to plant in august)।
  • নিম, বট, অশ্বত্থ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সেগুন, মেহগনি, নিসিন্দা, তুলসী ও বেল গাছ আগস্ট মাসে রোপণ করা যেতে পারে। বর্ষার আর্দ্র মাটি ও নিয়মিত বৃষ্টির কারণে এই সময় নতুন চারার শিকড় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গাছ সহজেই বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
  • এছাড়াও বাঁশ, শাল ও সুন্দরীর মতো গাছও বর্ষাকালে রোপণ করা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে পরিবেশ ও মাটির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন করে এসব গাছ লাগানো যেতে পারে  (Trees to plant in august)।
  • ফলগাছ লাগানোর জন্যও আগস্ট মাস বেশ উপযুক্ত। বর্ষার আর্দ্র মাটি ও নিয়মিত বৃষ্টিপাত নতুন ফলগাছের শিকড় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। তাই এই সময় আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, জাম, আমলকী, বেল ও কামরাঙার মতো ফলের গাছ লাগানো যেতে পারে।
  • এছাড়া নারকেল ও সুপারি গাছও আগস্ট মাসে রোপণ করা যায়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সারা বছর জলের সুবিধা কম, সেখানে বর্ষার বৃষ্টি নতুন চারার প্রাথমিক বৃদ্ধিতে বেশ উপকারী  (Trees to plant in august)।
  • লেবু জাতীয় গাছ, যেমন কাগজি লেবু ও বাতাবি লেবুও এই সময় লাগানো যেতে পারে। তবে এসব গাছের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—গাছের গোড়ায় যেন দীর্ঘ সময় জল জমে না থাকে। অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা হলে শিকড় পচে গিয়ে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
গাছের নাম রোপণ পদ্ধতি পরিচর্যার পদ্ধতি 
নিম (Neem treeজৈব সার মেশানো ৪৫x৪৫x৪৫ সেমি মাপের গর্তে এর চারা রোপণ করা উচিত; সরাসরি সূর্যালোক পড়ে এমন স্থান নির্বাচন করা সর্বোত্তম।প্রথম ৬ মাস নিয়মিত জল দেওয়া প্রয়োজন; পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন কম হয়।
তুলসী (How to grow basil) ছোট টবে অথবা বাগানের কোণে হালকা রোদযুক্ত স্থানে এই গাছ সহজেই রোপণ করা যায়।নিয়মিত হালকা জলের প্রয়োজন; অতিরিক্ত জল জমতে দেওয়া উচিত নয়।
বাঁশ (Bamboo plant)জলাবদ্ধতা মুক্ত ও উর্বর মাটিতে গুচ্ছাকারে এটি রোপণ করা উত্তম; শিকড়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন হয়।সাধারণত সামান্য পরিচর্যাতেই বেড়ে ওঠে; মাঝে মাঝে অতিরিক্ত ঝোপঝাড় ছেঁটে ফেলা প্রয়োজন।
নারকেল (Coconut) বেলে ও উর্বর মাটিতে ১ মিটার গভীর গর্তে চারা রোপণ করা উচিত; উপকূলীয় এলাকায় এতে সর্বোত্তম ফল পাওয়া যায়।নিয়মিত জল দেওয়া, বছরে একবার সার প্রয়োগ এবং লবণাক্ততা সহনশীলতা পরীক্ষা করে বজায় রাখতে হবে।
জাম (Black plum) গভীর গর্তে জৈব সার দিয়ে এর চারা রোপণ করুন; জলাশয়ের কাছে এটি বিশেষভাবে ভালো জন্মায়।প্রথমদিকে নিয়মিত জল দেওয়া প্রয়োজন; পরবর্তীতে আর কোনো অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না।
পেয়ারা (Guava) ৪৫x৪৫x৪৫ সেমি গর্তে বেলে-দোআঁশ মাটি এর চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত (Trees to plant in august)। নিয়মিত জল দেওয়া এবং বছরে দুইবার সার প্রয়োগ; ফলের মাছি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
কাঁঠাল (Jackfruit)গভীর ও উর্বর মাটিতে ৬০x৬০x৬০ সেমি গর্তে এর চারা রোপণ করা হয়; এর জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক প্রয়োজন।নিয়মিত জল, বছরে দুইবার জৈব সার এবং শুকনো ডালপালা ছাঁটাই করা প্রয়োজন।
আম (Mango tree)গোবর সার মেশানো ৬০x৬০x৬০ সেমি গর্তে এর চারা রোপণ করা উত্তম (Trees to plant in august)।চারা অবস্থায় জলাবদ্ধতা পরিহার করা উচিত; প্রতি বছর জৈব সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমন করা প্রয়োজন।
সেগুন এগুলো উঁচু ও সুনিষ্কাশিত মাটিতে সারিতে রোপণ করা হয়; গর্তগুলোতে সার দিতে হবে।প্রথম দুই-তিন বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন; নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগ করতে হবে।
শিশু গাছ এটি দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় খোলা মাঠে বা রাস্তার ধারে রোপণের জন্য উপযুক্ত; চারাগাছ গভীর গর্তে রোপণ করতে হয়।নিয়মিত জল দেওয়া এবং বছরে একবার ছাঁটাই করা প্রয়োজন; মাটিতে যেন জল জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কৃষ্ণচূড়া রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে বেলে-দোআঁশ মাটিতে ৩০x৩০x৩০ সেমি গর্তে রোপণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।প্রথম বছরে নিয়মিত জল দিতে হবে; ফুল ফোটার আগে হালকা জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
বট/অশ্বত্থ চারাগাছ বড় খোলা জায়গায় গভীর গর্তে এটি রোপণ করা উচিত; এগুলো বাড়ি বা দেয়াল থেকে দূরে লাগানো উচিত (Trees to plant in august)।প্রাথমিকভাবে জলের প্রয়োজন হয়; পরে স্বনির্ভর হয়ে উঠলে নিয়মিত ছাঁটাই প্রয়োজন হয়।

অতিরিক্ত তথ্য — 

গাছ রোপণের পরই কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং চারা রোপণের পর থেকেই শুরু হয় তার সঠিক পরিচর্যা। প্রথম কয়েক সপ্তাহ চারার গোড়ায় শুকনো পাতা, খড় বা জৈব উপাদান দিয়ে মালচিং করে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছার বৃদ্ধিও কমে। নতুন চারা যদি খুব নরম বা দুর্বল হয়, তাহলে পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে দেওয়া ভালো। এতে ঝড়ো বাতাস বা ভারী বৃষ্টির সময় চারা হেলে পড়ার সম্ভাবনা কমে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত একবার চারাগাছ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। পাতায় কোনো রোগের লক্ষণ, পোকামাকড়ের আক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পরও চারার পরিচর্যা বন্ধ করা যাবে না। শীতকালে মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিতে হবে। কারণ গাছের প্রথম বছরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এই সময় যত্ন নিয়ে চারার শিকড় ও গাছের ভিত্তি শক্ত করে তুলতে পারলে পরবর্তীতে গাছটি অনেক বেশি সুস্থ ও শক্তিশালী হয়ে বেড়ে উঠবে।

ভারত ও বাংলাদেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আগস্ট মাস গাছ লাগানোর জন্য একটি উপযুক্ত সময়। এই সময় নিয়মিত বৃষ্টির ফলে জলের প্রয়োজন কম হয়, মাটি নরম ও আর্দ্র থাকে এবং নতুন চারাগাছ সহজেই বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। নিম, বট, কৃষ্ণচূড়া, শিশু ও সেগুনের মতো ছায়াদানকারী ও কাঠ উৎপাদনকারী গাছের পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম ও নারকেলের মতো ফলদ গাছও এই সময় রোপণ করা যেতে পারে। সঠিকভাবে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে গাছের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুস্থ পৃথিবী গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই এই আগস্ট মাসে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে সেই দায়িত্ব পালনের শুরু করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, একটি গাছ শুধু একটি চারা নয়—এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি মূল্যবান বিনিয়োগ। আজকের লাগানো একটি গাছ আগামী বহু বছর ধরে আমাদের ছায়া, ফল, অক্সিজেন এবং সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ উপহার দিতে পারে (Trees to plant in august)।

প্রশ্ন ১. আগস্টে কী রোপণ করবেন (What to plant in august)?

উত্তর ১: আগস্টে নিম, বট, অশ্বত্থ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিশু, সেগুন ও মেহগনির (Mahogany tree) মতো গাছ লাগানো যায়। বর্ষার আর্দ্র মাটি ও নিয়মিত বৃষ্টির কারণে এই সময় চারাগাছ দ্রুত শিকড় বিস্তার করতে পারে। 

প্রশ্ন ২. আগস্টে কোন ফল রোপণ করতে হবে (What fruits to plant in august)?

উত্তর ২: আগস্টে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম, আমলকী, বেল ও কামরাঙার মতো ফলের গাছ লাগানো যায়। এছাড়া নারকেল, সুপারি ও উপযুক্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে বিভিন্ন লেবু জাতীয় গাছও রোপণ করা যায়। 

প্রশ্ন ৩. আগস্ট মাসে কি সবজি লাগানো যায় (Trees to plant in august)? 

উত্তর ৩: হ্যাঁ, আগস্ট মাসে পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বরবটি, লাউ (Gourd), ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও শসার (Cucumber) মতো সবজি চাষ করা যায়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। 

প্রশ্ন ৪. বারোমাসি সবজি কী কী? 

উত্তর ৪: পুঁইশাক (Malabar spinach), কাঁচালঙ্কা, বেগুন (Growing Eggplants), ঢেঁড়স (Okra Plant) ও পেঁপের (Papaya) মতো কিছু সবজি প্রায় সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে উৎপাদন ভালো রাখতে অঞ্চল ও ঋতু অনুযায়ী জাত নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা জরুরি। 

Visited 1 times, 1 visit(s) today
Close