Written by 8:00 pm Seasonal Gardening

Monsoon garden: বর্ষাকালীন বাগান প্রস্তুতি সম্পর্কে সহজাত তথ্য 

Monsoon garden

বর্ষাকাল ভারত ও বাংলাদেশের বাগানপ্রেমীদের জন্য বছরের অন্যতম সেরা সময়। নিয়মিত বৃষ্টি, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এই মৌসুমে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নতুন চারা সহজেই শিকড় গড়ে তোলে (Monsoon garden)। তাই বর্ষাকালীন বাগান বা মনসুন গার্ডেনিং সঠিকভাবে করতে পারলে খুব কম সময়েই একটি সুন্দর, সবুজ ও প্রাণবন্ত বাগান তৈরি করা সম্ভব।

ভারত ও বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে। এই সময় প্রাকৃতিকভাবে গাছে পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়, ফলে জলের  প্রয়োজন কম হয় এবং গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা, শিকড় পচা, ছত্রাকজনিত রোগ এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই বর্ষাকালে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সঠিক মাটি নির্বাচন, ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রবন্ধে আমরা জানব কীভাবে বর্ষার আগে বাগান প্রস্তুত করবেন, ভারতে মনসুন গার্ডেনিংয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী, এবং বর্ষাকালে বাগানকে সুস্থ ও সবুজ রাখতে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

  • ভারত ও বাংলাদেশের জলবায়ু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় হওয়ায় বর্ষাকাল গাছ লাগানোর জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। এই সময় নিয়মিত বৃষ্টির কারণে মাটি পর্যাপ্ত আর্দ্র থাকে এবং গাছের শিকড় সহজেই মাটিতে বিস্তার লাভ করতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির জল মাটির গভীরে পৌঁছে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, ফলে গাছ দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠে।
  • গ্রীষ্মের তীব্র গরমের তুলনায় বর্ষাকালে তাপমাত্রা অনেকটাই সহনীয় থাকে। তাই নতুন চারা রোপণ করলে তা দ্রুত শিকড় গেড়ে বসে এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এ সময় প্রাকৃতিকভাবেই পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়, ফলে আলাদা করে বারবার জল দেওয়ার প্রয়োজন কম হয়। যারা নিয়মিত বাগানের যত্ন নেওয়ার সময় পান না, তাদের জন্য বর্ষাকাল গাছ লাগানোর আদর্শ মৌসুম (Monsoon garden)।
  • বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় গাছের পাতা থেকে জলীয় বাষ্প কম বের হয়। এতে গাছ দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে এবং জলের ঘাটতিতে ভোগে না। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন—জলাবদ্ধতার কারণে শিকড় পচে যাওয়া, ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ এবং বিভিন্ন পোকামাকড়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।
  • তাই বর্ষাকালে সফলভাবে বাগান করতে হলে ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সঠিক মাটি নির্বাচন এবং নিয়মিত গাছের পরিচর্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে এই মৌসুমে খুব সহজেই একটি সবুজ, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বাগান গড়ে তোলা সম্ভব।

বর্ষাকালে সুস্থ ও সবুজ বাগান পেতে হলে আগে থেকেই সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ভারত ও বাংলাদেশে সাধারণত মে মাসের শেষ থেকে জুন মাসের শুরুতে বর্ষার শুরু হয়। এই সময় বাগান ঠিকভাবে প্রস্তুত করলে অতিরিক্ত বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও রোগ-পোকার সমস্যা অনেকটাই কমানো যায় (Monsoon garden)।

 বাগানে মাটির প্রস্তুতি:

  • বর্ষার আগে বাগানের মাটি ভালোভাবে খুঁড়ে আলগা করে নিন। এতে বৃষ্টির জল  সহজে মাটির গভীরে প্রবেশ করবে এবং শিকড় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবে। এরপর মাটির সঙ্গে জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট বা পচা গোবর সার মিশিয়ে দিন (Vermicompost)। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং গাছ দ্রুত বেড়ে উঠবে।

 ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা:

  • বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। তাই বাগানে জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট নালা বা ড্রেন তৈরি করুন। টবে গাছ লাগালে টবের নিচের ছিদ্রগুলো খোলা আছে কিনা অবশ্যই পরীক্ষা করুন, যাতে অতিরিক্ত জল  সহজেই বের হয়ে যায়।

আগাছা ও শুকনো পাতা পরিষ্কার:

  • বর্ষার আগে আগাছা, শুকনো পাতা এবং পুরোনো গাছের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করুন। এগুলো জমে থাকলে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাগান গাছকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

গাছের ডালপালা ছাঁটাই :

  • শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বল বা অতিরিক্ত ডালপালা ছেঁটে ফেলুন। এতে নতুন ডাল ও পাতা দ্রুত গজাবে, গাছে আলো-বাতাস চলাচল বাড়বে এবং ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি কমবে।

বীজতলা ও চারার প্রস্তুতি:

  • বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বীজতলা তৈরি করে বীজ রোপণ করুন। এতে বর্ষার শুরুতেই সুস্থ ও সবল চারা রোপণ করা যাবে এবং গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

প্রয়োজনীয় বাগানের সরঞ্জাম:

  • বর্ষার আগে কোদাল, খুরপি, গ্লাভস, জল দেওয়ার পাত্র, স্প্রে বোতল, জৈব সার (Organic fertilizer) এবং জৈব কীটনাশকের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে রাখুন। এতে বর্ষাকালে বাগানের পরিচর্যা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

সঠিকভাবে বাগান প্রস্তুত করলে অতিরিক্ত বৃষ্টির ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। পাশাপাশি গাছ দ্রুত শিকড় বিস্তার করে, রোগ-পোকার আক্রমণ কম হয়, গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং পুরো বর্ষাকাল জুড়ে বাগান সবুজ, সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।

  • দোপাটি ফুল বর্ষাকালে চাষের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলগুলোর একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম ইমপেশিয়েন্স বালসামিনা (Impatiens balsamina)। উজ্জ্বল রঙ, দ্রুত বৃদ্ধি এবং সহজ পরিচর্যার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের বাগানেই এই ফুলের কদর রয়েছে। লাল, গোলাপি, সাদা, বেগুনি এবং বিভিন্ন মিশ্র রঙের দোপাটি ফুল বর্ষাকাল জুড়ে বাগানকে রঙিন ও প্রাণবন্ত করে রাখে (Monsoon garden)।
  • দোপাটি ফুল চাষের জন্য বর্ষাকাল সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফুল দিতে শুরু করে। সাধারণত বীজ রোপণের ৭–১০ দিনের মধ্যে চারা গজায় এবং ৬–৮ সপ্তাহের মধ্যেই গাছে ফুল ফোটে।
  • দোপাটি ফুলের জন্য ঝুরঝুরে ও ভালো জল নিষ্কাশনযুক্ত দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। মাটির সঙ্গে সামান্য নদীর বালি এবং জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে গাছের শিকড় শক্ত হয় এবং ফুলের সংখ্যা বাড়ে।
  • এই গাছের গোড়ায় কখনো অতিরিক্ত জল জমতে দেবেন না, কারণ এতে শিকড় পচে যেতে পারে। প্রতিদিন ৪–৬ ঘণ্টা রোদ বা হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ রাখলে বেশি ফুল ফোটে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন এবং মাঝে মাঝে মাটি আলগা করুন, যাতে শিকড় পর্যাপ্ত বাতাস পায়। মাসে একবার জৈব সার বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করলে গাছ আরও স্বাস্থ্যবান হয় এবং দীর্ঘদিন ফুল দেয় (Flowers to plant in july)

দোপাটি ফুল শুধু বাগানের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে ফুল দেয় এবং মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো উপকারী পরাগায়নকারী পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। এছাড়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় দোপাটি ফুল ও পাতার কিছু ব্যবহার রয়েছে, বিশেষ করে ত্বকের যত্নে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার পরিমাণ এক নয়। তাই মনসুন গার্ডেনিং বা বর্ষাকালীন বাগান করার পদ্ধতিতেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্থানীয় আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনুযায়ী পরিকল্পনা করলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং রোগ-পোকার ঝুঁকিও কমে (Monsoon garden)।

বেশি বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে বাগান তৈরীর পদ্ধতি: 

  • কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ এলাকায় বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়। তাই এসব অঞ্চলে বাগান করার সময় ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাগানে বা টবে যেন কোনোভাবেই জল জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে এবং ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কম বৃষ্টিপাত হয় যুক্ত  অঞ্চলে  বাগান তৈরীর পদ্ধতি:  

  • রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হওয়া অঞ্চলে বর্ষার জল সংরক্ষণ করে বাগান করা একটি কার্যকর উপায়। বৃষ্টির জল সংগ্রহ করে প্রয়োজনে গাছে ব্যবহার করলে জলের অপচয় কমে এবং শুষ্ক সময়েও গাছ সুস্থ থাকে।

টব বা কন্টেইনার গার্ডেনিং:

  • বর্তমানে শহরাঞ্চলে টব গার্ডেনিং বা কন্টেইনার গার্ডেনিং খুবই জনপ্রিয়। যাদের বাড়িতে বাগানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই, তারা ছাদ, বারান্দা বা ব্যালকনিতেই সহজে গাছ লাগাতে পারেন।
  • টবে গাছ লাগানোর সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা জরুরি। টবের নিচে পর্যাপ্ত নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকতে হবে। টব সরাসরি মাটির ওপর না রেখে ইট বা স্ট্যান্ডের ওপর রাখুন, যাতে অতিরিক্ত জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। হালকা ও ভালো জল নিষ্কাশনযুক্ত মাটি ব্যবহার করুন, যাতে শিকড় সুস্থ থাকে।

বর্ষাকালে চাষের জন্য জনপ্রিয় সবজি:

  • ভারতে বর্ষাকালে অনেক ধরনের সবজি সহজেই চাষ করা যায়। এর মধ্যে ঝিঙে, লাউ, করলা, বরবটি, শসা এবং ঢেঁড়স অন্যতম। এসব সবজি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ভালো ফলন দেয় এবং পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করা যায়।

আপনার এলাকার আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের ধরন বুঝে বাগান পরিকল্পনা করলে বর্ষাকালে গাছের বৃদ্ধি অনেক ভালো হয়। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করলে অল্প যত্নেই একটি সুন্দর, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর বাগান তৈরি করা সম্ভব।

বর্ষাকালে গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে আপনার বাগান পুরো মৌসুমজুড়ে সবুজ, সুস্থ ও সুন্দর থাকবে (Monsoon garden)।

  • যেসব এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে মাটির সমতলের পরিবর্তে উঁচু বেড তৈরি করে গাছ লাগান। এতে অতিরিক্ত জল দ্রুত বের হয়ে যায় এবং গাছের শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
  • বর্ষাকালে আর্দ্রতার কারণে ছত্রাকজনিত রোগ দ্রুত ছড়ায়। তাই নিয়মিত গাছের পাতা ও ডালপালা পরীক্ষা করুন। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিমভিত্তিক বা অন্যান্য জৈব ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে পারেন (Monsoon garden)।
  • অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করুন। এগুলো মাটির উর্বরতা বাড়ায়, গাছকে দীর্ঘ সময় পুষ্টি দেয় এবং পরিবেশের জন্যও নিরাপদ।
  • বর্ষাকালে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যায়। গাছ সুরক্ষিত রাখতে নিমতেল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কীটনাশক নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। এতে ক্ষতিকর পোকা কমবে এবং গাছ সুস্থ থাকবে।
  • বৃষ্টির পর যদি গাছের গোড়ায় জল জমে থাকে, তাহলে দ্রুত তা পরিষ্কার করে দিন। দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে এবং গাছ দুর্বল হয়ে পরে। 
  • বর্ষাকালে অনেক সময় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়। তাই গাছ এমন স্থানে রাখুন, যেখানে প্রতিদিন অন্তত কয়েক ঘণ্টা আলো পৌঁছায়। এতে গাছের বৃদ্ধি ভালো হবে এবং রোগের ঝুঁকিও কমবে (Monsoon garden)।
  • আর্দ্র পরিবেশে আগাছা খুব দ্রুত জন্মায়। এগুলো গাছের পুষ্টি ও জল শোষণ করে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করে বাগান পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • শুকনো, দুর্বল বা অতিরিক্ত ডালপালা নিয়মিত ছেঁটে ফেলুন। এতে গাছের ভেতরে আলো ও বাতাস সহজে প্রবেশ করবে, নতুন পাতা ও ফুল দ্রুত গজাবে এবং গাছ আরও সুন্দর দেখাবে।

বর্ষাকালে সফলভাবে বাগান করতে হলে সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা, জৈব সার ব্যবহার এবং রোগ-পোকার নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য যত্ন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বর্ষার পুরো মৌসুমজুড়ে একটি সবুজ, সতেজ ও ফুলে-ফলে ভরা বাগান উপভোগ করা সম্ভব।

নিচের সারণিতে ভারত ও বাংলাদেশের বর্ষাকালীন বাগানের জন্য উপযুক্ত কিছু জনপ্রিয় গাছপালা এবং সেগুলোর উপকারিতা তালিকাভুক্ত করা হলো (Monsoon garden)।

গাছের নাম গাছের ধরণ উপকারিতা
১.বেগুন (Growing Eggplants)সবজি গাছ একটি বহুল ব্যবহৃত সবজি যা বর্ষাকালে ভালো ফলন দেয়।
২.ফার্নপাতাবাহার গাছ আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ছায়াময় এলাকার জন্য আদর্শ (Monsoon garden)।
৩.পুদিনা ভেষজ গাছ (Medicinal plants) সহজে ছড়ায়, রান্না ও হজমের জন্য উপকারী।
৪.হলুদ (Turmeric) মূল/কন্দ জীবাণুনাশক গুণসম্পন্ন, যা রান্না ও প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয় (Skin plants)
৫.আদা মূল/কন্দ রান্নায় ব্যবহৃত হয়, ঔষধি গুণসম্পন্ন, ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো জন্মায়।
৬.বরবটি সবজি লতা প্রোটিন সমৃদ্ধ, দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বেশি ফলন দেয়।
৭. করলা (Bitter Gourd) সবজি গাছডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, পুষ্টিগুণে ভরপুর।
৮.লাউ (Gourd)সবজি গাছঅল্প যত্নেই ভালো ফলন, স্বাস্থ্যকর ও সহজে হজমযোগ্য সবজি।
৯.ঝিঙে সবজি গাছপুষ্টিকর সবজি উৎপাদন করে এবং দ্রুত ফলন দেয়।
১০.তুলসী (How to Grow Basil)ভেষজ গাছএটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এর ধর্মীয় ও ঔষধি গুরুত্ব রয়েছে।
১১.জবা (Types of Hibiscus)ফুল গাছ সহজে চাষ করা যায়, ঔষধি গুণসম্পন্ন এবং চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয় (Ayurvedic plants for hair growth)
১২.গাঁদা (Winter Flowers in Bangladesh) ফুল গাছ পোকামাকড় তাড়ানোর কাজ করে এবং বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
১৩.দোপাটি ফুল গাছ দ্রুত বর্ধনশীল, রঙিন ফুল ফোটে এবং ত্বকের যত্নে এর আয়ুর্বেদিক ব্যবহার রয়েছে।
১৪.ক্রোটন পাতাবাহার গাছরঙিন পাতার জন্য বাগান সাজাতে ব্যবহৃত হয়, অল্প যত্নেই টিকে থাকে (Monsoon garden)।

উপরের তালিকা থেকে বোঝা যায় যে, ফুল, শাকসবজি, ভেষজ এবং পর্ণমোচী—এই চার প্রকারের গাছপালাই বর্ষাকালের বাগানে সহজে জন্মায় এবং নানাভাবে উপকারী (Monsoon garden)।

বর্ষাকাল ভারত ও বাংলাদেশের বাগানপ্রেমীদের জন্য গাছপালা লাগানো ও বাগান করার এক দারুণ সুযোগ। এই সময় প্রকৃতিই গাছের বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেয়। তাই সঠিক প্রস্তুতি, উপযুক্ত গাছ নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে বর্ষাকালেই একটি সুন্দর, সবুজ ও রঙিন বাগান গড়ে তোলা সম্ভব। দোপাটি ফুলের মতো রঙিন ফুল থেকে শুরু করে ঝিঙে, লাউ ও করলার মতো পুষ্টিকর সবজি—বর্ষাকালে বাগানে চাষ করার মতো গাছের কোনো অভাব নেই। শুধু জলাবদ্ধতা এড়ানো, ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা, জৈব সার ব্যবহার এবং নিয়মিত গাছের যত্ন নেওয়ার মতো কয়েকটি বিষয় মনে রাখলেই বাগান হয়ে উঠতে পারে সৌন্দর্য, পুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তির এক সুন্দর উৎস। তাই এই বর্ষায় আর দেরি না করে আপনার বাগানকে প্রস্তুত করুন। প্রকৃতির এই সুন্দর ঋতুকে কাজে লাগিয়ে নিজের বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা বারান্দায় গড়ে তুলুন একটি সবুজ, সতেজ ও প্রাণবন্ত বাগান (Monsoon garden)।

প্রশ্ন ১. বর্ষাকালে কি গাছে নিয়মিত সার দেওয়া উচিত? 

উত্তর ১: বর্ষাকালে অতিরিক্ত সার না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা ভালো। ভারী বৃষ্টির সময় সার না দেওয়াই ভালো, কারণ বৃষ্টির জলে  পুষ্টি উপাদান ধুয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন ২. বর্ষাকালে কোন গাছগুলো সবচেয়ে ভালো জন্মায় (Monsoon garden)? 

উত্তর ২: দোপাটি, জবা, গাঁদা, কলকে ফুল, রঙ্গন ও জুঁইয়ের মতো ফুল গাছ বর্ষাকালে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এছাড়া লাউ, ঝিঙে, করলা, বরবটি ও ঢেঁড়সের মতো সবজিও এই মৌসুমে ভালো জন্মায়। 

প্রশ্ন ৩. বর্ষাকালে টবে জল জমে যাওয়ার সমস্যা কীভাবে রোধ করব? 

উত্তর ৩: টবের নিচে পর্যাপ্ত নিষ্কাশনের ছিদ্র রাখুন এবং টবটি ইট বা স্ট্যান্ডের ওপর রাখুন, যাতে অতিরিক্ত জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। টবে ভালো ড্রেনেজযুক্ত ঝুরঝুরে মাটি ব্যবহার করলেও জল জমার সমস্যা কমে (Monsoon garden)।

Visited 1 times, 1 visit(s) today
Close