Written by 8:00 pm Gardening, How to

Poisonous plants: বিষাক্ত গাছ চেনার সহজ উপায়

Poisonous plants

প্রকৃতির সবুজ জগৎ যেমন সুন্দর ফুল ও ঔষধি গাছপালায় ভরপুর, তেমনি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অনেক বিপজ্জনক বিষাক্ত উদ্ভিদ (Poisonous plants)। এসব উদ্ভিদ মানুষ ও প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের মতো জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশে এই ধরনের বিষাক্ত গাছের বিস্তার বেশ ব্যাপক।

প্রতি বছর অনেক মানুষ অজান্তে এসব গাছের সংস্পর্শে এসে বা ভুল করে সেগুলো খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন—কখনো কখনো যার পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়। তাই বিষাক্ত উদ্ভিদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সচেতন হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

ভারত ও বাংলাদেশের বিষাক্ত উদ্ভিদ সম্পর্কে কিছু কথা (Death from poisonous plants in India):

ভারতে প্রতি বছর বিষাক্ত উদ্ভিদের কারণে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিষক্রিয়া গ্রামীণ এলাকায় বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে শিশু ও কৃষিজীবী মানুষের মধ্যে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিষাক্ত উদ্ভিদ খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা নিয়মিত শোনা যায়। বিশেষত ধুতুরা ও করবী গাছ সংক্রান্ত বিষক্রিয়ার খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এছাড়া, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এসব গাছের বীজ বা রস ব্যবহারের ঘটনাও ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই নথিভুক্ত হয়েছে। তাই এসব বিষাক্ত উদ্ভিদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয় (Poisonous plants)।

  • করবী (Oleander):

করবীর বৈজ্ঞানিক নাম নেরিয়াম ওলিয়ান্ডার (Nerium oleander)। এটি একটি সুন্দর ফুলের গাছ ভারত ও বাংলাদেশের বাগান এবং রাস্তার ধারে সহজেই দেখা যায়। তবে এর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক বিষ, গাছটির প্রতিটি অংশ—পাতা, ফুল, ছাল এমনকি মূলও অত্যন্ত বিষাক্ত। পাতায় সাদা দাগ দেখা দিলে বাড়িতেই তার দ্রুত সমাধান সম্ভব (White spots on plant leaves)। এই ফুলে অলিয়্যান্ড্রিন ও নেরিন নামক গ্লাইকোসাইড থাকে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটায়। এই গাছের বিষক্রিয়ায় বমি, পেটব্যথা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়; গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এই গাছের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, কারণ কৌতূহলবশত তারা পাতা বা ফুল মুখে দিতে পারে। তাই করবী গাছ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শিশুদের এর কাছ থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

  • ধুতুরা (Datura):

ধুতুরার বৈজ্ঞানিক নাম দাতুরা স্ট্রামোনিয়াম (Datura stramonium)। এই ফুলটি উপমহাদেশে বহুল পরিচিত একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ, যা রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে ও গ্রামীণ এলাকায় সহজেই জন্মায়। এতে স্কোপোলামিন, হায়োসায়ামিন ও অ্যাট্রোপিনের মতো শক্তিশালী অ্যালকালয়েড থাকে, যা মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর বিষক্রিয়ায় হ্যালুসিনেশন, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, অচেতনতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ভারতে ধুতুরার বীজ ব্যবহার করে অপরাধমূলক বিষপ্রয়োগের ঘটনাও ইতিহাসে নথিভুক্ত রয়েছে (Poisonous plants)।

  • রেড়ি গাছ (Castor Plant):

রেড়ি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম রিসিনাস কমিউনিস (Ricinus communis)। এই গাছ থেকে ক্যাস্টর অয়েল পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে এর বীজে রিসিন নামক অত্যন্ত বিষাক্ত প্রোটিন থাকে, যা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষগুলোর মধ্যে একটি। মাত্র কয়েকটি বীজ গ্রহণ করলেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে। রিসিন শরীরের কোষে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়, ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত বিকল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতে রেড়ি গাছের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

  • ফ্লেম লিলি (Flame Lily):

ফ্লেম লিলির বৈজ্ঞানিক নাম গ্লোরিওসা সুপারবা (Gloriosa superba)। এই ফুলের আরও এক নাম অগ্নিশিখা, এটি দেখতে যতটা আকর্ষণীয়, ততটাই বিপজ্জনক একটি উদ্ভিদ। এটি ভারত ও বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় জন্মায়। এর কন্দ মিষ্টি আলুর মতো দেখতে হওয়ায় অনেকেই ভুল করে তা খেয়ে ফেলেন এবং বিষক্রিয়ার শিকার হন। এই উদ্ভিদে কোলচিসিন নামক বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা কোষ বিভাজন ব্যাহত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিষক্রিয়ার লক্ষণ হিসেবে বমি, ডায়রিয়া, কিডনি ও লিভার বিকল হওয়া দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে (Poisonous plants)।

বিষাক্ত উদ্ভিদ চেনার সহজ উপায় (Poisonous plants in India):  

বিষাক্ত উদ্ভিদ চেনার কিছু সহজ নিয়ম জানা থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। উজ্জ্বল রঙের ফুল বা ফল আকর্ষণীয় হলেও সেগুলো প্রায়ই বিষাক্ত হতে পারে—যেমন করবী বা অগ্নিশিখা ফুল। এছাড়াও, গাছের পাতায় কোনো দাগ দেখা গেলে, সেটিকে গাছের রোগ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে (Leaf spot disease)

এছাড়া তীব্র বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত গাছ, যেমন ধুতুরা, এড়িয়ে চলা উচিত। কাঁটাযুক্ত বা রোমশ গাছ ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হলো—অপরিচিত কোনো গাছ স্পর্শ না করা এবং তার ফল বা পাতা মুখে না দেওয়া। শিশুদেরও এ বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি (Poisonous plants)।

উপসংহার

বিষাক্ত উদ্ভিদ আমাদের চারপাশেই দেখা যায়—বাগান, রাস্তার ধারে বা বন-জঙ্গলে। করবী, ধুতুরা, রেড়ি ও অগ্নিশিখার মতো গাছগুলো সঠিকভাবে চেনা এবং শিশুদের এগুলো থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিষক্রিয়ার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে; কোনোভাবেই নিজে চিকিৎসা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত সচেতনতা বাড়ানো, যাতে অপ্রয়োজনীয় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো যায় (Poisonous plants)

একটি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ): 

প্রশ্ন ১ . ভারত ও বাংলাদেশে সবচেয়ে পরিচিত বিষাক্ত উদ্ভিদ কোনগুলো?

উত্তর ১: এই অঞ্চলে সবচেয়ে পরিচিত বিষাক্ত উদ্ভিদগুলো হলো করবী, ধুতুরা, রেড়ি গাছ, অগ্নিশিখা, নাক্স ভমিকা এবং আকন্দ গাছ (Poisonous plants)।

প্রশ্ন ২. বিষাক্ত গাছের পাতা খেয়ে ফেললে কি করা উচিত?

উত্তর ২: নিকটবর্তী হাসপাতালে বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। বমি করানোর চেষ্টা না করাই ভালো, কারণ এতে কিছু বিষ আরও দ্রুত শোষিত হতে পারে। কোন গাছটি খাওয়া হয়েছে তা মনে রাখলে চিকিৎসা করা সহজ ও দ্রুত হয়। 

প্রশ্ন ৩. শিশুদের বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে কিভাবে রক্ষা করবেন (Poisonous plants)?

উত্তর ৩: বাগান বা আশপাশ থেকে পরিচিত বিষাক্ত গাছগুলো সরিয়ে দিতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে যে অপরিচিত ফল বা পাতা মুখে যেন তারা মুখে না দেয়। বাইরে খেলার পর হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে (Garden poisonous plants)।

Visited 1 times, 1 visit(s) today
Close