গম বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। ভারত ও বাংলাদেশে ধানের পর এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ (Wheat)। গমের আটা, দোরুম গম এবং ভুসি—সব মিলিয়ে এটি আমাদের খাদ্য ও কৃষি অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিকভাবে চাষ করা গেলে গমের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব।
ভারত ও বাংলাদেশে গম চাষের পদ্ধতি (Wheat cultivation in india):
- দোআঁশ এবং এঁটেল দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। ঠান্ডা ও শুষ্ক শীতকালীন আবহাওয়া গম উৎপাদনের জন্য ভালো। ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুর হলো প্রধান গম উৎপাদনকারী অঞ্চল।

- বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গমের বীজ রোপণ করা হয়, অন্যদিকে ভারতে রবি মৌসুমে অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে রোপণ শুরু হয়। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২০-১৫০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। উচ্চফলনশীল জাত যেমন BARI Gom-26 ও HD-2967 বেশি জনপ্রিয়।
- সঠিক ফলনের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সারের নির্দিষ্ট মাত্রা প্রয়োজন। গমের জীবনচক্রে অন্তত ৩-৪ বার জল অপরিহার্য—বিশেষ করে অঙ্কুরোদগম, কুশি বের হওয়া এবং শীষ ধরার সময়।
গমের আটা এবং ডুরুম গম সম্পর্কে কিছু তথ্য (Durum wheat):
- সাধারণ গম পিষে আটা তৈরি করা হয় এবং এটি রুটি, পরোটা ও বিভিন্ন বেকারি পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় (What is wheat flour)। অন্যদিকে, ডুরুম গম হলো এক প্রকার শক্ত গম, যা পাস্তা, সুজি ও ম্যাকারনি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এতে গ্লুটেনের পরিমাণ বেশি থাকায়, এটি দিয়ে তৈরি খাবার তুলনামূলকভাবে বেশি মজবুত ও পুষ্টিকর হয় (What is durum wheat)। ভারত ও বাংলাদেশে গমের পাশাপাশি ধানকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Paddy)।

গমের ভুসি (Wheat bran):
- গমের ভুসি হলো এর বাইরের স্তর যা গম প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় আলাদা করা হয়। এটি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমের জন্য খুব উপকারী। গমের ভুসি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় (Wheat)।
উপসংহার
গম শুধু একটি শস্য নয়—এটি ভারত ও বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবিকা ও পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সঠিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ, মানসম্মত আটা উৎপাদন, ডুরুম গমের চাষ বৃদ্ধি এবং ভুসির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করলে কৃষিক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে গমের উৎপাদন ও গুণগত মান আরও উন্নত করা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত (Wheat)।
একটি প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ):
প্রশ্ন ১. গমের উপকারিতা কী কী?
উত্তর ১: গম একটি পুষ্টিকর খাদ্য, এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন B রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গমের ভুসি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে ও পেট ভরা রাখে।
প্রশ্ন ২. গম খেলে কি ওজন বাড়ে (Wheat)?
উত্তর ২: পরিমিত পরিমাণে গম খেলে সাধারণত ওজন বাড়ে না। তবে ময়দা দিয়ে তৈরি বিস্কুট, কেক বা পাউরুটির মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ৩. ভারতে কোন গমের গ্লুটেন বেশি?
উত্তর ৩: ভারতে ডুরুম গম এবং HI-8498 জাতের গমে গ্লুটেনের পরিমাণ বেশি থাকে। এছাড়াও, GW-496 এবং HD-4672 জাতের গমেও উচ্চ মাত্রার গ্লুটেন পাওয়া যায়। এই গমগুলো প্রধানত পাস্তা, সুজি এবং উন্নত মানের আটা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৪. ভারতের উচ্চ ফলনশীল গমের জাত কোনটি?
উত্তর ৪: ভারতের উচ্চ ফলনশীল গমের জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে HD-2967, HD-3086 ও PBW-343 উল্লেখযোগ্য।
